দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের দাবি জোরালো হয়েছে। জেলার সার্বিক উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের কাছে আবেদনটি হস্তান্তর করেন, যা রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, কুড়িগ্রামে রেল যোগাযোগের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আধুনিকায়নের অভাবে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট রেললাইন পুনঃস্থাপন, ধরলা সেতুর পাশে রেলসেতু নির্মাণ, কুড়িগ্রাম-চিলমারী-গাইবান্ধা হয়ে ঢাকার সঙ্গে বিকল্প রেল করিডোর চালু এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে রেল সংযোগ জোরদার করা।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ চালু হলে ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে ভুটানভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রেল যোগাযোগ উন্নত হলে জেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা পাপ্পু মিয়াজি বলেন, ‘এখানে যাতায়াতের জন্য ভালো রেল ব্যবস্থা নেই। রেললাইন হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
নাগেশ্বরী পৌর এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, ‘চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে অনেক সময় লাগে। রেল যোগাযোগ উন্নত হলে ভোগান্তি কমবে।’
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান, ‘সোনাহাট বন্দর পর্যন্ত রেললাইন চালু হলে সীমান্ত বাণিজ্য বহুগুণে বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।’
কুড়িগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে রেল যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই কুড়িগ্রামের সঙ্গে সোনাহাট হয়ে ভারতের আসাম এবং গাইবান্ধা হয়ে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হোক।’
জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, জেলার উন্নয়নের স্বার্থে রেল যোগাযোগের বিকল্প নেই এবং এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
এমএস/